মামুন হোসেন, ভোলা প্রতিনিধি||
ইচ্ছেটা ছিল বড় হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হবে। হাতের কাজেই মুগ্ধ করত বাড়ির সবাইকে।
ঘরে বসেই বানাচ্ছিল ‘অটোমেটিক ডাস্টবিন’। তৈরি করছিল এক অভিনব প্রজেক্ট।
কিন্তু প্রযুক্তির প্রতি সেই ভালোবাসাই কেড়ে নিল প্রাণ — বিদ্যুতায়িত হয়ে মৃত্যু হল নবম শ্রেণির ছাত্র মোস্তাকিম মাহির (১৫)।
ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার রাতে, ভোলার লালমোহন পৌর শহরের কলেজ গেট এলাকায়। মাহি লালমোহন সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র। পিতা মনির হোসেন একজন চাল ব্যবসায়ী, মা একজন সরকারি স্কুলশিক্ষিকা।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রযুক্তিপ্রেমী মাহি অনেক দিন ধরেই নিজে নিজে নানা বৈদ্যুতিক জিনিস নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করত। পলিটেকনিক পড়ার আগেই হাতে-কলমে কাজ শেখার নেশা ছিল তার। সেই সূত্রে একটি ‘অটোমেটিক ডাস্টবিন’ বানাতে গিয়ে সে ইলেকট্রিক মোটর ও ফ্যান সংযুক্ত করছিল।
কিন্তু হয়তো কোথাও একটি সংযোগ ভুল হয়ে গিয়েছিল। প্রজেক্টে কাজ করতে করতেই আচমকা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় মাহি। ছিটকে পড়ে দেয়ালের সঙ্গে। তখন বাসায় কেউ ছিল না — বাবা-মা ছিলেন বাজারে।
বাড়ি ফিরে নিস্তেজ ছেলেকে দেখতে পান মা-বাবা। তড়িঘড়ি করে ছুটে যান লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তৈয়বুর রহমান জানান, “রাত সাড়ে আটটার দিকে মাহিকে হাসপাতালে আনা হয়। সে তখনই মৃত। মৃত্যু হয়েছে ইলেকট্রিক শকে।”
মাহির খালু মনির হাওলাদার বলেন, “ছেলেটা খুব মেধাবী ছিল। সব সময় নতুন কিছু বানাতো। সেই আগ্রহই আজ কাল হয়ে দাঁড়াল।”
এই অকাল মৃত্যুতে এলাকা জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সহপাঠী থেকে শুরু করে শিক্ষক-প্রতিবেশী — কেউই বিশ্বাস করতে পারছেন না, সদা হাস্যময় সেই মুখ আর নেই।
কেউ বলছে, “মাহির হাতেই ছিল ভবিষ্যতের প্রযুক্তি।”
কেউ বলছে, “সতর্কতা থাকলে হয়তো মাহিকে বাঁচানো যেত।”
তবে একথা ঠিক —
স্বপ্ন নিয়ে খেলা করছিল যে কিশোর, তার শেষ ঠিকানাটা হলো নিঃশব্দ দেওয়াল। প্রযুক্তির প্রেমে পড়া সেই মনোবল হয়তো থাকবে কারও মনে, কিন্তু মাহি থাকবে না আর কোনো প্রজেক্টের পাশে।
সাউথ বাংলা ডেস্ক 
















